সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে কি হয়? শরীরে টের পাবেন ম্যাজিক!

সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে কি হয়? শরীরে টের পাবেন ম্যাজিক!

আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।

শীতের হিমেল হাওয়ায় শরীরকে সুস্থ রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে ক্লান্তি, সর্দি-কাশি এবং ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে চিকিৎসকরা ডায়েটে পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেন। আর এই তালিকায় সবার ওপরে থাকে খেজুর। আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।

শীতে রোজ তিনটে করে খেজুর খান, শরীরে ম্যাজিক টের পাবেন
শীতে রোজ তিনটে করে খেজুর খান, শরীরে ম্যাজিক টের পাবেন

শীতে প্রতিদিন অন্তত ৩টি করে খেজুর খেলে আপনি কী কী অভাবনীয় উপকার পাবেন, তা জেনে নিন।

শীতে প্রতিদিন ৩টি খেজুর খাওয়ার ৫টি দারুণ উপকারিতা
১. শরীরকে দ্রুত উষ্ণ রাখে (Provides Natural Heat)

খেজুরে উচ্চমাত্রায় ক্যালোরি এবং প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা শরীরের বিপাক হার বাড়িয়ে তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শীতের সকালে ৩টি খেজুর খেলে আপনার শরীর দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে উষ্ণ থাকবে এবং কাজে বাড়তি শক্তি পাবেন।

২. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে (Rich in Iron)

শীতকালে অনেকেরই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যারা সারাদিন দুর্বলতা বা ক্লান্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য খেজুর একটি প্রাকৃতিক পাওয়ার হাউজ।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় (Immunity Booster)

শীত মানেই ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর। খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং সাইনাসের সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি (High in Fiber)

শীতে জল কম খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে। রাতে ৩টি খেজুর জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জলসহ খেজুর খেলে হজমের সমস্যা দ্রুত মেটে।

৫. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় (Heart Health)

শীতের সময় রক্তনালী কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায় বলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে।

খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
সকালে খালি পেটে: সারা দিন প্রাণবন্ত থাকতে সকালের জলখাবারের আগে খেজুর খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
দুধের সাথে: রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে ৩টি খেজুর ফুটিয়ে খেলে গভীর ঘুম হয় এবং হাড় মজবুত থাকে।
শীতকালীন সুপারফুড হিসেবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। তবে মনে রাখবেন, খেজুরে প্রচুর চিনি থাকে। তাই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। সুস্থ থাকতে আজই আপনার শীতের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এই সস্তা অথচ মহামূল্যবান ফলটি।

অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া বা ‘প্রি-ম্যাচিউর গ্রেইং’ বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার মাঝে রুপোলি চুল উঁকি দিতে দেখলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেকে একে কেবল বংশগতি বা স্ট্রেসের ফল বলে মনে করেন। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাবই হতে পারে চুল পাকার মূল কারণ।

শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কীভাবে চুলের রঙ কেড়ে নেয় এবং কোন ডায়েট মেনে চললে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, জেনে নিন।

পুষ্টির ঘাটতি ও অকালে চুল পাকা: বিজ্ঞান কী বলছে?
আমাদের চুলের গোড়ায় থাকা ‘মেলানোসাইট’ কোষগুলো মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে, যা চুলকে কালো রাখে। শরীরে বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে এই মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে চুল ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে।

কোন কোন উপাদানের অভাবে চুল পাকে?
১. ভিটামিন বি-১২ (Vitamin B12): এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা সরাসরি চুল পাকানোর জন্য দায়ী। নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

২. কপার বা তামা (Copper): মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়ায় কপার এনজাইম হিসেবে কাজ করে। শরীরে কপারের অভাব হলে চুলের কালো রঙ ফিকে হয়ে যায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *