রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব ( Nocturia ) হওয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন—রাতে বেশি জল বা ক্যাফেইন পান, মূত্রথলির সংক্রমণ (UTI), প্রোস্টেট সমস্যা (পুরুষদের), ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, গর্ভধারণ, বা মেনোপজ-এর মতো অন্তর্নিহিত রোগ, যা শরীর অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করলে বা মূত্রথলি ঠিকমতো কাজ না করলে ঘটে; এর সমাধানে জীবনযাত্রার পরিবর্তন (যেমন সন্ধ্যার পর তরল কমানো) ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণ কারণ (Lifestyle & Temporary)
অতিরিক্ত তরল গ্রহণ: ঘুমানোর আগে বেশি জল, চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে।
ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল: এগুলি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
কিছু ওষুধ: মূত্রবর্ধক (diuretic) জাতীয় ওষুধ সেবন করলে।
স্বাস্থ্যগত কারণ (Underlying Conditions)
মূত্রথলি ও মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI): সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবের তীব্রতা বাড়ে।
অতিরিক্ত সক্রিয় মূত্রথলি (Overactive Bladder): প্রস্রাবের চাপ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা।
প্রোস্টেটের সমস্যা (BPH): পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হলে মূত্রথলিতে চাপ পড়ে।
ডায়াবেটিস: অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার কারণে শরীর অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি করে।
কিডনি রোগ বা হৃদরোগ: হার্ট বা কিডনির সমস্যা হলে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বের করতে মূত্রথলিকে বেশি কাজ করতে হয়।
ঘুমের সমস্যা (Sleep Apnea): স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে এই সমস্যা হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও মেনোপজ: হরমোনের পরিবর্তন ও পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা।
পা ফোলা (Edema): দিনের বেলায় পায়ে জল জমলে রাতে শরীর তা বের করে দেয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি প্রস্রাবের সাথে জ্বর, পিঠে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, বা অন্যান্য লক্ষণ থাকে, তাহলে দেরি না করে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন, কারণ এটি ডায়াবেটিস, কিডনি বা অন্য কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।

